Human health and Diseases Notes for class 12 Biology 4th Semester (NEET Standard)
মানবস্বাস্থ্য ও রোগ (Human Health and Diseases) - Class 12 Biology বিস্তারিত স্টাডি নোটস
১. স্বাস্থ্য ও এর নিয়ন্ত্রক (Health and its Determinants)
WHO-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বাস্থ্য কেবল রোগহীনতা নয়। স্বাস্থ্যের তিনটি স্তম্ভ হলো:
• শারীরিক স্বাস্থ্য: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা।
• মানসিক স্বাস্থ্য: আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও চাপ মোকাবিলা করার ক্ষমতা।
• সামাজিক স্বাস্থ্য: পরিবেশ ও সমাজের সাথে সুসম্পর্ক।
স্বাস্থ্য বজায় রাখার উপায়:
১. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত স্নান, হাত ধোয়া ও নখ কাটা।
২. সুষম খাদ্য: কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক অনুপাত।
৩. ব্যায়াম ও যোগাসন: শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়।
৪. সচেতনতা: সংক্রামক রোগ ও টিকাকরণ সম্পর্কে জ্ঞান।
২. ইমিউন সিস্টেম (Immune System) -
আমাদের শরীর মূলত দু'ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করে:
(A) জন্মগত অনাক্রম্যতা (Innate Immunity)
এটি জন্ম থেকেই থাকে এবং এটি Non-specific (নির্দিষ্ট কোনো জীবাণুর জন্য নয়)। এর ৪টি প্রধান বাধা (Barriers) রয়েছে:
• শারীরবৃত্তীয় বাধা (Physical): ত্বক (Skin) এবং শ্বাসতন্ত্র/পাচনতন্ত্রের মিউকাস স্তর।
• শারীরিক রসায়ন (Physiological): পাকস্থলীর HCl, চোখের জল (Lysozyme), মুখের লালা।
• কোষীয় বাধা (Cellular): শ্বেত রক্তকণিকা যেমন—PMNL-Neutrophils, Monocytes এবং Natural Killer (NK) কোষ।
• সাইটোকাইন বাধা (Cytokine): ভাইরাস আক্রান্ত কোষ থেকে নিঃসৃত Interferon, যা সুস্থ কোষকে ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করে।
(B) অর্জিত অনাক্রম্যতা (Acquired Immunity)
এটি জন্মগত নয়, পরিবেশ থেকে অর্জিত হয়। এর দুটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো Specificity (নির্দিষ্টতা) এবং Memory (স্মৃতি)।
• প্রাথমিক সাড়া (Primary Response): কোনো জীবাণু প্রথমবার আক্রমণ করলে শরীর ধীরগতিতে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
• গৌণ সাড়া (Secondary/Anamnestic Response): একই জীবাণু দ্বিতীয়বার আক্রমণ করলে স্মৃতি কোষের কারণে শরীর অত্যন্ত দ্রুত ও তীব্র আক্রমণ চালায়।
৩. অ্যান্টিবডির গঠন (Structure of Antibody)
অ্যান্টিবডি বা Immunoglobulin (Ig) হলো 'Y' আকৃতির প্রোটিন অণু।
• গঠন: এতে ৪টি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল থাকে—দুটি হালকা (Light chains) এবং দুটি ভারী (Heavy chains)। একে H2L2 বলা হয়।
• প্রকারভেদ: প্রধান ৫ প্রকার—IgG, IgA, IgM, IgE, IgD। (মনে রাখার সহজ উপায়: GAMED)।
১. IgG (Immunoglobulin G):
পরিমাণ: রক্তে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (প্রায় ৮০%) থাকে।
কাজ: এটি একমাত্র অ্যান্টিবডি যা প্লাসেন্টা (Placenta) ভেদ করে মায়ের শরীর থেকে ভ্রূণে প্রবেশ করতে পারে, যা নবজাতককে প্রাথমিক সুরক্ষা দেয়।
২. IgA (Immunoglobulin A):
অবস্থান: এটি মূলত শরীরের নিঃসরণগুলোতে থাকে (যেমন—লালা, চোখের জল এবং মাতৃদুগ্ধ বা Colostrum)।
কাজ: এটি শ্বাসতন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের মিউকাস স্তরে জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয়।
৩. IgM (Immunoglobulin M):
গঠন: এটি আকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় (Pentamer বা ৫টি একক দিয়ে গঠিত)।
কাজ: শরীরে কোনো সংক্রমণ হলে সবার আগে (First response) এই অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। এটি রক্তে থাকা জীবাণুকে খুব দ্রুত দলা পাকিয়ে (Agglutination) ধ্বংস করতে সাহায্য করে।
৪. IgE (Immunoglobulin E):
কাজ: এটি মূলত অ্যালার্জি (Allergy) এবং পরজীবী (Parasitic) সংক্রমণের সময় কাজ করে। অ্যালার্জির সময় এটি মাস্ট কোষ (Mast cells) থেকে হিস্টামিন নিঃসরণ ঘটায়, যার ফলে হাঁচি বা চুলকানি হয়।
৫. IgD (Immunoglobulin D):
অবস্থান: এটি বি-লিম্ফোসাইট (B-cell) এর উপরিভাগে থাকে।
কাজ: এটি বি-কোষকে সক্রিয় করতে এবং সেগুলোকে অ্যান্টিবডি উৎপাদনকারী প্লাজমা কোষে রূপান্তরিত করতে উদ্দীপনা দেয়।
একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Exam Tips):
- সবচেয়ে বড় অ্যান্টিবডি: IgM
- সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়: IgG
- লালা ও চোখের জলে থাকে: IgA
- অ্যালার্জির জন্য দায়ী: IgE
অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি কমপ্লেক্স (Antigen-Antibody Complex)
অ্যান্টিবডির যে অংশে অ্যান্টিজেন যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্যারাটোপ (Paratope) এবং অ্যান্টিজেনের যে অংশ অ্যান্টিবডির সাথে যুক্ত হয় তাকে বলে এপিটোপ (Epitope)। এদের মিলন অনেকটা 'তালা-চাবি' (Lock and Key) পদ্ধতির মতো কাজ করে।
৪. সংক্রামক রোগের বিস্তারিত সারণী (Pathogenic Diseases)
রোগ
প্যাথোজেন (Pathogen)
সংক্রমণ পদ্ধতি
প্রধান লক্ষণসমূহ
টাইফয়েড
Salmonella typhi
দূষিত খাদ্য ও জল
দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর (৩৯°-৪০°C), কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রে ফুটো হওয়া। Widal Test দ্বারা শনাক্ত করা হয়।
নিউমোনিয়া
Streptococcus pneumoniae
শ্বাসবিন্দু (Droplets)
ফুসফুসের অ্যালভিওলাই তরলে পূর্ণ হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট ও নখ নীল হয়ে যাওয়া।
ম্যালেরিয়া
Plasmodium vivax/falciparum
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা
Hemozoin টক্সিনের কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। যকৃৎ ও RBC আক্রমণ।
ফাইলেরিয়া
Wuchureria bancrofti
কিউলেক্স মশা
লিম্ফ নালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, পা ও হাত হাতির মতো ফুলে যাওয়া।
অ্যামিবিয়াসিস
Entamoeba histolytica
গৃহমক্ষিকা (Houseflies)
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা, রক্ত ও মিউকাসযুক্ত মলত্যাগ।
৫. ক্যান্সার: একটি মারণ ব্যাধি
| রোগ | প্যাথোজেন (Pathogen) | সংক্রমণ পদ্ধতি | প্রধান লক্ষণসমূহ |
|---|---|---|---|
| টাইফয়েড | Salmonella typhi | দূষিত খাদ্য ও জল | দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর (৩৯°-৪০°C), কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রে ফুটো হওয়া। Widal Test দ্বারা শনাক্ত করা হয়। |
| নিউমোনিয়া | Streptococcus pneumoniae | শ্বাসবিন্দু (Droplets) | ফুসফুসের অ্যালভিওলাই তরলে পূর্ণ হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট ও নখ নীল হয়ে যাওয়া। |
| ম্যালেরিয়া | Plasmodium vivax/falciparum | স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা | Hemozoin টক্সিনের কারণে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। যকৃৎ ও RBC আক্রমণ। |
| ফাইলেরিয়া | Wuchureria bancrofti | কিউলেক্স মশা | লিম্ফ নালির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, পা ও হাত হাতির মতো ফুলে যাওয়া। |
| অ্যামিবিয়াসিস | Entamoeba histolytica | গৃহমক্ষিকা (Houseflies) | কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা, রক্ত ও মিউকাসযুক্ত মলত্যাগ। |
ক্যান্সার কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাদের Contact Inhibition ধর্ম থাকে না।
• টিউমারের প্রকারভেদ:
- Benign (বিনাইন): নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ থাকে, ছড়ায় না।
- Malignant (ম্যালিগন্যান্ট): এটিই আসল ক্যান্সার। এই কোষগুলি রক্ত বা লিম্ফের মাধ্যমে দেহের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে Metastasis বলে।
• শনাক্তকরণ: Biopsy, CT scan, MRI এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি পরীক্ষা।
৬. এইডস (AIDS) - Acquired Immuno Deficiency Syndrome
• ভাইরাস: HIV (Human Immunodeficiency Virus)। এটি একটি Retrovirus (RNA জিনোম)।
• ক্রিয়াকৌশল: HIV ভাইরাস শরীরে ঢুকে Helper T-lymphocytes (TH) কোষে আক্রমণ করে এবং সেখানে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
• শনাক্তকরণ: ELISA (Enzyme-Linked Immuno-Sorbent Assay) এবং নিশ্চিতকরণের জন্য Western Blot।
৭. মাদকাসক্তি ও কৈশোর (Drug and Alcohol Abuse)
NEET-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ড্রাগস:
1. Opioids (ওপিঅয়েডস): যেমন মরফিন, হেরোইন। এগুলি স্নায়ুতন্ত্রের গ্রাহকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরীরকে শিথিল করে (Depressant)।
2. Cannabinoids: গাঁজা, চরস, ভাঙ। এগুলি হৃদসংবহন তন্ত্রকে (Cardiovascular system) প্রভাবিত করে।
3. Coca Alkaloids (Cocaine): এটি ডোপামিন পরিবহনে বাধা দেয় এবং হ্যালুসিনেশন বা মতিভ্রম তৈরি করে।
উপসংহার (Conclusion):
পরিশেষে বলা যায় যে, মানবস্বাস্থ্য ও রোগ বিষয়টি কেবল চিকিৎসা বিজ্ঞানের অংশ নয়, এটি আমাদের উন্নত জীবনযাত্রার একটি নির্দেশিকা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা গুটিবসন্ত (Smallpox) বা পোলিওর মতো মারণ রোগকে জয় করতে পেরেছি। টিকাকরণের ব্যাপক প্রসার, অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত সচেতনতা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।তবে ক্যানসার, এইডস (AIDS) বা বর্তমান সময়ের নতুন নতুন ভাইরাল সংক্রমণের (যেমন COVID-19) বিরুদ্ধে লড়াই এখনও চলমান। সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, ড্রাগ ও অ্যালকোহলের অপব্যবহার রোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিক যত্ন। সচেতনতাই হলো রোগের বিরুদ্ধে আমাদের প্রধান হাতিয়ার; কারণ— "Prevention is better than cure" (প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে শ্রেয়)।
🎥 ScienceCoat NEET |🎥 ScienceCoat বাংলা
সাবস্ক্রাইব করে আজই তোমার NEET বা বোর্ডের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করো! 🚀
© 2026 ScienceCoat.com | All Rights Reserved.

.png)
.png)